ওরা “পথশিশু” একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিন ওদের দিকে

By | January 14, 2017

ছবিটা তুলেছিলাম 2016 এর আগষ্টে । তখন উত্তরার একটি প্রতিষ্ঠানে জব করতাম। প্রতিদিন সকালে যখন হাউজবিল্ডিং ফুটওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হতাম । তখন ফুটওভার ব্রিজের ওপরে প্রায়ই এমন কিছু চিত্রের প্রত্যখ্যদর্শি হতাম। বিষয়গুলো আমাকে খুব খুব বেশি হৃদয়ের মধ্যে আঘাত করত।  এখন ওই জব টা আর করি না তাই এমন দৃশ্যের ও চোখে পরে না। আজ কম্পিউটারে একটা ফাইল খুজতে গিয়ে ছবিটা চোখে পড়ে গেল … ব্যাস 5 সেকেন্ডও সময় লাগে নাই.. চোখে পানি আসতে ।

আল্লাহ্ আমাকে আপনাকে অনেক ভাল রেখেছেন এর জন্য শুকরিয়া আদায় করতে হবে। আচ্ছা ওরা কি দোষ করেছে বলতে পারেন? কেন আজ ওরা ফুটওভার ব্রিজের ওপরে ঘুমুচ্ছে? আজ তো ওদের আপনার সন্তানের মত একা এক বেডে থাকার কথা। আজ কেন ওরা পথে? কি দোষ ওদের?  আসলে ওরা তো কোন দোষ করে নাই । আসলে ওদের জন্ম হবার গল্পটা আমার আপনার চেয়ে ভিন্ন.. ফলাফল আজ ওরা “পথ শিশু”।

আপনার জানা নেই কিন্ত আজ আম্মুকে জিজ্ঞেস করে দেখবেন আপনার জন্মের সময় এলাকার মানুষকে ঠিকই মিষ্টি মুখ করিয়েছে, আর ওদের মা-বাবা তো নিজের সন্তানের প্রথম মিষ্টি মুখের ব্যবস্থা করতে পারে নাই, আপনার সন্তান বড় হবার সাথে সাথে তার জন্য নানা প্রকার পুষ্টি জাতীয় খাবার সাথে দামী ব্রান্ডের দুধ- Nesle, Marks, Dano ব্যান্ডের দুধ খাওয়ায়েছেন আর ওদের তো একটাই ভিটামিন খাবার ভাতের মাড়। একটু বড় হবার সাথে সাথে কিনে দিয়েছেন Baby Car… আর ওদের তো সখের একটাই গাড়ি “ট্রেন”।

আমি আপনি পরিবার থেকে যতটুকু সার্পোট পেয়েছি তার প্রায় কিছুই পায় নাই ওরা। আরও কষ্টের কথা আমাকে/আপনাকে পরিচয় জানার প্রথম যে প্রশ্নটি করা হয় সেই দুটি মানুষের নামই তো অনেকের জানা নেই। আবার হয়ত কেউ কেউ বাবা অথবা মা কারও নামই জানা নেই।

ওদের জন্ম যাই হোক না কেন.. আপনার/আমার দ্বায়িত্ব রয়েছে।  ওরা যখন আপানার কাছে এসে হাত পেতে কিছু চায়, আপনি পকেট থেকে 50 টাকা বের করে দিলেন, ব্যস এটুকুতেই আপনার দ্বয়িত্ব শেষ হয়ে গেল?? নিজেকে বিবেক থেকে একটু ভাবতে চেষ্টা করুন, আপনাকে আল্লাহ্ সম্পদ দিয়েছেন তার সঠিক ব্যবহার করুন। পরিবার/আপনজনদের জন্য প্রযোজনের অতিরিক্ত যদি রেখে যান এর জন্য পরকালে আপনাকে কঠিন জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।

ওদেরকে এখন ভাল করে গড়ে তোলার সময় আছে। আপনার যদি সামর্থ থাকে অন্তত একটি শিশুর পাশে দাড়াতে পারেন, একটি শিশুর ভবিৎত গড়ে দিতে পারেন । আপনার এই মহান উদ্দোগের জন্য আল্লাহ্ আপনোকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করতে পারেন।  আসুন বিবেকটাকে জাগ্রত করি .. আমি বিশ্বাস করি আপনার মধ্যেও একটি দয়ালু স্বত্তা আছে কিন্তু পারিপার্শ্বিক কারনেই হোক আর যে কারণেই হোক সেটি ঘুমিয়ে আাছে তাকে আজই জাগিয়ে তুলুন।  হৃদয় দিয়ে পারিপাশ্বিক অবস্থাগুলোকে অবলোকন করতে শিখুন ইনশাল্লাহ্ শান্তি আর ভালবাসায় পৃথিবীটা ভরে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *